খোলা চিঠি – শুধু তোমাকে ‘কেলেঘাই’
বিষ্ণুপদ দাশ
বিনা ভাষ্যে ছক ভেঙে আজ তোমার মুখোমুখি। জানি ‘কাটা ছাঁটা সোজা কথা’ও ইঙ্গিত ইশারার দোসর।
শুরু হোক স্ত্রোত্রপাঠ-
“সতত, হে নদ! তুমি পড় মোর মনে”
এ বন্দনা গান- একাধারে প্রেম ও পূজা। ছন্দিত তনু-মনে বয়ে চলা এক নদীর নাম।
“লাল সে গালের কালো তিলটির বদলে গো দিয়ে দিতে পারি সমরখন্দ ও বোখারারা”
এইভাবে নিঃস্ব হতে চায় প্রেমিক হৃদয়-।
“কেহ দেয় দেবতা চরণে
এপর্যন্ত ঠিক ছিল। চমকে উঠি চিরন্তন সেই প্রশ্ন শুনে-
“এতদিন কোথায় ছিলেন?
শোনো, সমম্ভ্রম দূরত্বের কুহেলিকা সরিয়ে বরং বলা ভালো-
“এতদিন কোথায় ছিলে?
এ ভাষা বোঝে না কেউ। হৃদয় সংরাগে মোড়া, গভীর আশ্লেষে সে শুধু এ জীবন ধন্য হতে চায়।
“ভবনই গহন গম্ভীর বেগে বাহি”-
প্রেমের ইদগাহে ঈক্ষণ জাগানো ভাষার পাঠোদ্ধারে আজকের চ্যাটজিপিটি ও গোলক ধাঁধায় ঘুরতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে আসবে না কখনো।
তোমাকে বাঁধার সাধ্য কার? মুক্তধারা গতিপথে কলকল্লোলে বয়ে যাওয়া অপাপবিদ্ধ কে দেখে মনে বলে ওঠে-
“ওগো নদী আপন বেগে পাগল পারা”
জানি ‘সময় গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার।’ আজ পৌঢ় প্রহরে শ্রীহীন বর্তমান কারাবাসে নদী তীরে ফাগুন-পলাশের অর্ঘ্য সাজিয়ে মেঘদূত রচনার সাধ জাগে।
“জল চাই একটু যদি
তখন ভাবি, এ প্রিয়া কেমন প্রিয়া? এ নদী কেমন নদী?
“হ কপিলা চলুক সঙ্গে”।
সত্য শুধু কামনা। মরণ পিপাশা মিথ্যার একশেষ। তবু রোমান্টিক মন আশাবাদী,-
“পাড়ি দিতে নদী হাল ভাঙে যদি
জন্মান্তর মানি বা না মানি তবু মনে হয়-
মোরা আর জনমের হংস মিথুন ছিলাম।
ঝিলম নদী দেখা হয়নি, দেখা হয়নি শিকারাও। সন্ধ্যারাগে ঝিলমের স্রোত খাপে ঢাকা বাঁকা তলোয়ার হয়ে যায় নিবিড় ভাবনায়।
“গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা
জনিতার ঋণ ভুলি কি করে? সে যে নদী মাতৃকা।
এতক্ষণ হলো গৌরচন্দ্রিকা,- ‘সুরধনী তীরে উজোর’। এবার বলি- “এ চিঠি পাবে কিনা জানিনা”।
“সমুদ্র কি রিক্ত হয়ে যাবে
সে কথার মেলেনি উত্তর।
“দেখেছি সবুজ পাতা
মরা নদীর সোঁতার ধারে সেদিন প্রথম হিজল চিনেছিলাম। যৌবনের আলো আঁধারিতে দেখেছিলাম সে গাছের জানালায় আলো আর বুলবুলির খেলা।
“তুমি কি যমুনার তীরে কদম্বের
অঞ্জলি ভরে গাইতাম-
“ওরে নীল যমুনার জল”
খুঁজে পেয়েছি প্রার্থনা গানের মতো জীবন ধন্য করা সে প্রেম কে। আবার বিতত যন্ত্রণায় তোমার কাছে গিয়ে বলেছি-
“বন্ধু, সকলই আমারই দোষ”।
এখন ভাবি সোজা পথে গেলে তোমার সঙ্গে যেতাম- ‘আমি জীবন ভর’।
“একদিকে আমি শত সহস্র আর্তনাদ
মনের দহনে কেয়াপাতার নৌকা নয়, তোমার জলে ভাসিয়েছি বিসর্জিত প্রেম প্রতিমাকে- যাকে গড়ে তুলেছিলাম “আশা দিয়ে, ভাষা দিয়ে, তাহে ভালোবাসা দিয়ে”
“মনে পড়ে বসন্তের শেষে আসা
আবার বিরহের তীব্র দহনে তোমার কাছে অকপটে বলা যায়- জৈবিক এষণা; হোক না যতই নিষ্ঠুর কথন-
“প্রেম সত্য, প্রেমপাত্র বহু অগনন
পেলব হৃদয় ছেনে চুমে মনে হয় প্রেম শুধু কাছে টানে না, দূরেও ঠেলে দেয়।
“নাইবা পেলাম আমার গলায়
চিঠিতো গোপন কথা বয়ে নিয়ে যায়। অনাবৃত মন তাই শম্বুক গতি নিয়ে ফিরে যায় মনের ডেরায়।
“সে যে ফিরে ফিরে আসে
যাব্বাবা! তার নামটাই নিতে ভুলে গেছি।
পুনশ্চ- আর একটি কথা তোমায় বলি, জন্মদিনের উপহারে পড়ো আমার অবিনাশী প্রেমের স্বপ্ন আখর-
“তিমির বিনাশি হবার কলিজা আছে কি জানি না, তবু তমসায় জাগবো দু’জনে সবকিছু ভুলে, চৈতালী রাতে স্বপ্নের ঋণে বিষন্ন ভাঙা চাঁদের আলোয় আরও একবার ভালোবাসা যায় মৃত্যুর মুখে থুৎকার দিতে, প্রেয়সী, তোমার জন্মদিনে”।
0 Comments